Sale!

নারীর শত্রু – মিত্র

Original price was: ৳ 180.00.Current price is: ৳ 100.00.

Description

নারীর শত্রু – মিত্র

লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মাদ যাইনুল আবিদীন
প্রকাশনায়ঃ মাকতাবাতুল আযহার

গ্রন্থটির নামেই গ্রন্থের গুরুত্ব ফুটে উঠে ৷ কী বিষয়ে আলোচনা হতে পারে পাঠক নামটি দেখলেই তা বুঝতে পারবে ৷ তাই এটার আলোচনার তেমন প্রয়োজন পড়েনা ৷ তথাপি সংক্ষিপ্ত কিছু আলেচনা করছি ৷
একমাত্র ইসলামই নারীদেরকে যে মর্যাদা ও অধিকার দিয়েছে অন্য কোনোই ধর্মে তা দেয়নি ৷ নারীরা ইসলামে যে শ্রেষ্ঠত্য ও মর্যাদা পেয়েছে তা অন্য কোনো ধর্মেই পায়নি ৷ ইসলামের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে নারীর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্য ৷ ইসলামই আমাদের শিখিয়েছে, নারী জগতের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ৷ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেকে যে জীবন – চিন্তা দান করেছেন, তাতে নারীর আসন স্নেহে সম্মানে অনন্য ৷ কোনো ক্ষেত্রে নারীর গুরুত্ব ও স্বীকৃতি পুরুষকে ছাড়িয়ে ৷ পবিত্র কুরআনে সুরাতুন নিসা— নারীর সুরা নামক একটি সুরা রয়েছে ৷ পুরুষের নামে স্বতন্র কোনো সুরা নেই ৷ পবিত্র কুরআনে পুরুষদেরকে নারীদের সাথে সদাচরণের আদেশ করা হয়েছে ৷ পবিত্র হাদিস শরীফে বোনের সাথে উত্তম আচরনের ফযিলত এভাবে বর্ণিত হয়েছ— রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তির দুইজন বোন থাকে আর সে তাদের সাথে উত্তম আচরণ করেছে— এর বিনিময়ে সে বেহেশতে প্রবেশ করবে “৷ সূৃুবহানাল্লাহ ৷ অন্য আরেকটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমার যে কোন উম্মতের তিনজন কন্যা কিংবা তিনজন বোন থাকবে আর সে তাদের দেখাশোনা ও ব্যয়ভার বহন করবে— সাবালক হওয়া পর্যন্ত, সে আমার সাথে এইভাবে বেহেশতে থাকবে -বলে তিনি বৃদ্ধ ও তর্জনী এক সাথে করে দেখান ৷ (অর্থাৎ বৃদ্ধ ও তর্জনী যেভাবে এক সাথে থাকে সে ব্যক্তি জান্নাতে আমার সাথে সেভাবে থাকবে)
.
এমনিভাবে মায়ের মর্যাদার ব্যপারে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে ৷
গ্রন্থকার এভাবে ইসলামে নারীর মর্যাদার বিষয়টি এ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ৷ তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন ইসলামে নারীর ন্যায্য অধিকারের বিষয়টি ৷
.
অপরদিকে অন্যান্য ধর্মে নারীর অবমূল্যায়ন নারীর ন্যায্য অধিকার আদায় না করার বিষয়, নারীর প্রতি জুলুমের বিবরণ, নারীকে নীচু মনে করার বিবরণ, পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন তাদেরই ধর্মীয় বইয়ের রেফারেন্স থেকে ৷ যেমন ইসলাম পূর্ব যুগে হিন্দু ধর্মে নারী পিতৃ সম্পদের হকদার বিবেচিত হতোনা ৷ স্বামীর সম্পদে ও না ৷ বিবাহ বিবাহ বিচ্ছেদের কোন ধারণাই ছিলনা ৷ হিন্দু আইনে সর্বাধিক কঠিন পরিস্থিতির শিকার হলো বিধবা নারীগন ৷ কারণ তাদের জন্য দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি নেই ৷
ইহুদী ধর্মেও নারীর অমূল্যায়ন করা হতো; তাদের ধর্মে কোন নারী যদি পুত্র সন্তান প্রসব করতো তাহলে সে ৭ দিন নাপাক থাকতো এবং ২৩ দিন পর তার স্রাব শুরু হতো ৷ পক্ষান্তরে কন্যা সন্তান প্রসব করলে ১৫ দিন নাপাক থাকতো এবং ৬৬ দিন পর স্রাব শুরু হতো ৷ ইহুদি ধর্মে কন্যা সন্তান তখনই পিতৃ সম্পদের উত্তরাধিকারী হয় যখন তার পিতার কোন পুত্র সন্তান না থাকে ৷
.
প্রাচীন গ্রীকে নারীদেরকে হাট – বাজারে বিক্রি করা হতো ৷ ইসলাম পূর্বযুগে নারী সন্তানকে জীবন্ত পুতে রাখা হতো ৷
বক্ষমান এই গ্রন্থে ইসলামে নারীর মর্যাদা এবং অন্যান্য ধর্মে নারীদের হীণ্যতার বিবরণ বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে ৷
ইসলামে নারীর এতো মর্যাদা রয়েছে যা অন্য কোন ধর্মেই নেই ৷ এতদ্বাসত্তেও এক শ্রেণীর কূ চক্রী বুদ্ধিজীবী, ইসলাম বিদ্বেশি – বেইমানরা নারীর অধিকার আদায়ের শ্লোগান তুলেছে ৷ তারা নিজেদেরকে নারীর হিতাকাংখি হিসেবে প্রকাশ করছে ৷ তারা নারীর মিত্র সাজার চেষ্টা করছে ৷ তাদের দাবী হলো, ধর্ম ও প্রাচীন সমাজব্যবস্থাই নারীর প্রধান দুশমন ৷ ধর্মের পর্দা আর প্রাচীন ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই নারী স্বাধীন ৷ এই দাবী আদায়ের লক্ষে তারা বিভিন্ন কলা – কৌশলে নারীদেরকে ঘর থেকে বের করে আনছে ৷ তাদেরকে স্বামী, পিতা – মাতা ও সন্তান – সন্ততি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার অপ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে ৷
নারীবাদীর শ্লোগান তুলে নারীদেরকে অফিস – আদালতে ডুকিয়ে নিচ্ছে ৷ যেখানে পুরুষরা থাকে ৷ আর তারা নারীদেরকে বুঝাতে চাচ্ছে যে তারা নারীর প্রকৃত বন্ধু, প্রকৃত হিতাকাংক্ষি ৷ অথচ তারাই যে নারীর শত্রু, নারী জাতি সেটা বুঝতে পারে না ৷ গ্রন্থকার বক্ষমান এ গ্রন্থে সূর্যের আলোর ন্যায় পরিষ্কারভাবে দেখিয়ে দিয়েছেন প্রকৃতভাবে কারা নারীর শত্রু আর কারা নারীর বন্ধু ৷ তিনি বিশদভাবে আলোচনা করেছেন, কীভাবে কূচক্রীরা চক্রান্ত করে যাচ্ছে ৷
.
যে সমস্ত সরলমনা নারীরা কূচক্রী এই বেইমানদের কোমল আমন্ত্রনে কিংবা অাধুনিকতার ছোবলে পরে বাবা, ভাই ও স্বামী ছেড়ে নেমে এসেছেন স্বাদীনতার রঙিন মাঠে; কী পেয়েছেন তারা সেগুলোর কিছু দৃষ্টান্ত পত্র – পত্রিকার পাতা থেকে তুলে ধরেছেন
যেসব ক্ষেত্রে কিছু নাস্তিক ইসলামে যথার্থ বিধান থাকা সত্তেও তারা আপত্তি তুলেছে গ্রন্থকার তাদের উদ্বৃতি তুলে ধরার পর তাদের সে আপত্তির দাত ভাঙ্গা জওয়াব প্রদান করেছেন ৷ তিনি দৃঢ়তার সাথেই ইসলাম, অন্যান্য ধর্ম, এবং আধুনিক সভ্যতায় নারীর মূল্য ও বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেছেন ৷
সম্পত্তিতে নারীর অধিকার, সমানাধিকার, বিয়ের গুরুত্ব, পর্দার গুরুত্ব, ব্যভিচারের ভয়াবহ পরিনতি ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ৷
.
গ্রন্থটি পাঠ করলে পাঠক সহজেই বুঝতে পারবেন বর্তমান পরিস্থতিতে নারীদেরকে বিভিন্ন সেক্টরে নিয়োগ দেওয়ার কী অর্থ, কেনই বা তাদেরকে বাড়ী থেকে বের করে আনা হচ্ছে ৷ আর যারা তাদের প্রলেভোনে পডে় বাড়ী – ঘর ছেরে নেমে পড়েছে চাকরীতে তার ফলাফল কী দাড়াচ্ছে তা সহজেই অনুমান করতে পারবেন ৷
গ্রন্থতি পাঠ শুরু করলে শেষ করা পর্যন্তই আগ্রহ থেকে যাবে ৷ তাই যারা নারীদের ব্যপারে ঘটিত এসব পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান তারা এ মূল্যবান গ্রন্থখানি পড়ুন ৷ ইনশাআল্লাহ উপকৃত হবেন ৷ আর ঐ সমস্ত নারী যারা এই চক্রান্তের জালে আটকে গেছে তাদের জন্য ও বইটি উপকার বয়ে আনবে ৷
আল্লাহ পাক লেখকের এই দ্বীনি খেদমত কবুল করুন ও তাকে হায়াতে তয়্যিবা দান করুন এবং নারী সমাজ ও আমাদের সকলকে চক্রান্তকারীদের চক্রান্ত থেকে হিফাজত করুন ৷ আমিন ৷

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “নারীর শত্রু – মিত্র”

Your email address will not be published. Required fields are marked *